সব ভ্যাট কমালে সরকারের আয় কোথায় —অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘ভ্যাটের ব্যাপারে চাপ আছে।

অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘ভ্যাটের ব্যাপারে চাপ আছে। ভ্যাট কমাতে বলা হয়। সব ভ্যাট যদি কমিয়ে দেন সরকারের আয় কোথায়? আমরা ধার করছি। আবার বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ বলছে কোনোক্রমেই স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ কমাবেন না। ভ্যাট বাড়িয়েছি সেটা নিয়ে বহু কথাবার্তা হচ্ছে। এখনো হচ্ছে। কিছু কিছু ভুল তো হয়। কিছু কিছু আড়ালে চলে যায়।’

গতকাল বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। বিএসআরএফ সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন। সভাপতিত্বে করেন সংগঠনের সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাব।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যারা গুরুতর আহত হয়েছে তাদের ৩৫ লাখ টাকা করে কয়েকশ কোটি টাকা দিতে হয়েছে। পুলিশের ৩০০ গাড়ি পুড়িয়েছে সেখানে ৫০০ কোটি টাকা দিতে হবে। এগুলো আমি কোথা থেকে পাব। ভ্যাট হলো দ্রুত করা যায়, সেটা আমি করেছি।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘এডিবি ডিসেম্বরে ৫০০ মিলিয়ন ডলার দেবে, জুনে বিশ্বব্যাংক ৫০০ মিলিয়ন দেবে এবং আইএমএফ মার্চে না হয় জুনে ২ বিলিয়ন ডলার দেবে। তাদের কতগুলো শর্ত আছে। যেমন ট্যাক্স-ভ্যাট বাড়ানোর। সেখানে আমি যৌক্তিকভাবে দেখলাম যে আয়কর বাড়ালে সংসদে যেতে হবে আর যদি ভ্যাট বাড়াই তাহলে একটি এসআরও দিয়ে আমি করতে পারব। এখানে কিন্তু বেশি টাকা না। মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকা। এর কিছু প্রভাব পড়েছে ঠিক।’

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, ‘মানুষের মধ্যে এখন আস্থা আসছে। বিদেশ থেকে অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে না পাঠিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠায়। সবই ব্যাংকিং চ্যানেলে আসে বলব না। হুন্ডির মাধ্যমে আসলে সব টাকা দেশে আসে না। কারণ ওটা বাইরেই থেকে যায়। বহু মানুষ আছে ডলার রেখে দেয়, আপনার টাকা পাঠায়। একটা মেসেজ দিল, হোন্ডা নিয়ে চট করে টাকা দিয়ে চলে যায়। কিন্তু আসার কথা ডলার। না আসার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রভাব পড়ে। কিছুদিন আগে আমাদের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট নেগেটিভ ছিল। ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট নেগেটিভ ছিল। আমাদের রফতানি প্রবৃদ্ধিও নেগেটিভ ছিল। এখন কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট পজিটিভ। ম্যাক্রোইকোনমিতে স্ট্যাবিলিটি আসছে। একেবারে পুরোপুরি চলে আসছে সেটা বলব না।’

আরও